দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নন্দা মালিনী মারা গেছেন। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে তাঁর গান ও কণ্ঠ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
নন্দা মালিনীর অ্যালবাম ‘পাওয়ানা’র গানগুলোতে সামাজিক নানা সমস্যা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির সময় জাতীয় বেতারে তাঁর এসব গান প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা তাঁর জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি। ভক্তরা গান শুনেছেন এবং তাঁর কনসার্টে অংশ নিয়েছেন। পরবর্তী কয়েক দশকেও রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর সোচ্চার অবস্থান অব্যাহত ছিল। বর্তমানে তিনি সিংহলি সংগীতাঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ও স্মরণীয় শিল্পী হিসেবে বিবেচিত।
নন্দা মালিনী নাওয়ালায় নিজ বাড়িতে মারা যান। আগামী ২৩ আগস্ট তাঁর ৮৩তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল।
১৯৪৩ সালের ২৩ আগস্ট কালুতারার একটি গ্রামে নয় সন্তানের পরিবারে চতুর্থ সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজধানী কলম্বোয় পড়াশোনা করার সময় ১৯৫৬ সালে একটি কবিতা গানের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। এটিকেই তাঁর সংগীতজীবনের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে গান গেয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান নন্দা মালিনী। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক গানে দুর্নীতির সমালোচনা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন ভুলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বানও ছিল।
সে সময় শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছিল। বামপন্থি কর্মীদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। তরুণদের বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য ও অভিজাত শ্রেণির আধিপত্য নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল। একই সময়ে জাতিগত উত্তেজনাও তীব্র হয়, যা ১৯৮৩ সালে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে নন্দা মালিনীর গান প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তাঁর ১৯৮৭ সালের অ্যালবাম ‘পাওয়ানা’য় মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মতো বিষয় উঠে আসে। অ্যালবামটি পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কার সেই অস্থির সময়ের অন্যতম প্রতীকী সংগীতকর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নন্দা মালিনীর অবস্থান বদলায়নি। ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তিনি প্রকাশ্যে সেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান এবং আন্দোলনকারীদের সমাবেশে গান পরিবেশন করেন।
কয়েক মাসের ওই গণবিক্ষোভের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারের পতন ঘটে।
নন্দা মালিনীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। তাঁর স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নন্দা মালিনীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁকে সমকালীন সময়ের একজন সত্যিকারের সংগীত কিংবদন্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নন্দা মালিনীর কালজয়ী সংগীত প্রজন্মের পর প্রজন্ম শ্রীলঙ্কার মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/